** ⚽কলকাতার মেসি-নামা ⚽**
কলকাতার যুবভারতীতে এই গ্রহের অন্যতম খ্যাতনামা ফুটবল রাজপুত্র মেসির আগমন ঘটতে চলেছে ১৩ই ডিসেম্বর- শহরের চারিদিকে এ বার্তা রটি গেল ক্রমে.. তো শীতের সপ্তাহান্তে আমোদগেঁড়ে বাঙালি যে যুবভারতীমুখো হবেই - এ তো নাবালক মাত্রেই বুঝবে। যদিও দর্শনী বেশ চড়া দামেই ছিল,তবু হুজুগে পাবলিককে আটকায় হেন সাধ্য কার.. আয়লার সময় যখন দিঘা, মন্দারমনি থেকে পর্যটকদের ফিরিয়ে দেয়, বাঙালি সেখানে সমুদ্রের পাড়ে পুলিশকে এড়িয়ে ' ঝড় দেখতে ' যায়.. সেই জাতিকে রোখে কোন বাপের ব্যাটা?
তা আমিও ভেবেছিলুম যাবো কিন্তু দর্শনীমূল্য দেখে পকেট হাতে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলো বলে যেতে পারলাম না। তবে একবার KKR এর ইডেনে সংবর্ধনার যে আয়োজন হয়েছিল, তা যে শেষে গণপিটুনিতে পরিণত হয়েছিল ; সেই স্মৃতি মনে বেশ জাগরুক ছিল। তা মেসি এলেন শহরে নিজের চাটার্ড বিমানে। খবরে দেখলাম মেসিকে দেখতে বিমানবন্দর এর সামনে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম। পারলে মেসির বিমান ধরে টেনে নামিয়ে নেয়।কোন দরজা দিয়ে মেসি বেরোবে শুনেই সেইদিকে সমুদ্রের মতো জনজোয়ার আছড়ে পড়ছে। মেসির হোটেলের সামনেও জনতা। সকালবেলা হোটেল থেকে হলো মূর্তি উন্মোচন। সে মূর্তি তো গত এক হপ্তা থেকে মুখে প্লাস্টিক বেঁধে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিল..আজ মুখ খোলার পর শুনলাম (নাকি গুজব?) ঋত্বিক রোশন রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।🙏
কাট টু যুবভারতী। ১০০০০ টাকার টিকিট কেটে মেসিকে চোখে দেখার জন্য স্টেডিয়াম ফুল ভর্তি, (এদিকে এরাই ভারতীয় দলের ম্যাচ এর ১০০ টাকার টিকিট কেটে মাঠ ভরাতে পারে না)। যাই হোক,আমরা দেখে শিখবো, ঠেকে শিখবো না পণ করেছি। দুপুর নাগাদ মেসি মাঠে এসে পড়লেন..মেসি সাইডলাইন থেকে মাঠে ঢুকতেই একজন সন্মানীয় ' মন্ত্রী ' তাকে পুরো ম্যান মার্কিং করে নিলেন দেখা গেল। গোটা বিশ্বকাপে ফ্রান্স,জার্মানি,ইতালির ডিফেন্সের দেওয়াল ভেঙে যে মেসির বাম পা ঝলসে উঠেছে বারবার.. কে জানে , ' বাম ' বলেই হয়তো মন্ত্রীমশাই তাকে একদম জিরো(০)তে পাঠিয়ে দিলেন। নড়তে পর্যন্ত দিলেন না ভালোভাবে।এরকম মার্কিং করার জন্য আগামী বিশ্বকাপে শোনা যাচ্ছে,তাকে adviser নিয়োগ করার কথা ভাবছে কিছু অংশগ্রহণকারী দেশ। মেসিকে কোমর জড়িয়ে টানলেও পুলিশ তাকে একবারও লাল কার্ড দেখালো না।পরিবারের সাথে মেসিকে ঘাড় ধরে ছবি তোলালেন,মেসি টু শব্দ করার চান্স পেলেন না।
ফুটবল বডি কন্ট্যাক্ট গেম আমরা সবাই জানি, কিন্তু ফুটবলারের সংবর্ধনাও যে বডি কন্ট্যাক্ট হতে পারে, তা আজ zaনতি পারা গেল। কিন্তু ততক্ষণে স্টেডিয়াম ভর্তি বাঙালি অস্থির হয়ে উঠেছে। কারন যতই ' অরুপ তোমার বানী ' হোক না কেন..তাকে আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না হাবভাব দেখে। মেসির সিকিউরিটি পারসন পর্যন্ত এরকম মার্কিং দেখে চাপ খেয়ে,মেসিকে কভার দিতে ছুটে এলো। ইতিমধ্যে গ্যালারিতে নরক গুলজার যারে কয়..১০ টাকার জলের বোতল ২০০ টাকায় নাকি কিনেছিল লোকজন; তারা ২০০ এর কথা ভুলে গিয়ে ওগুলো ১০ এর ভেবেই মাঠে ছুঁড়ে দিতে লাগলো। উৎসাহী কেউ কেউ গেট ভেঙে মাঠে ঢোকার চেষ্টাও শুরু করে দিল। মেসির প্ল্যাকার্ড খুলে ফেলে দেওয়া হলো উপর থেকে। এইসব ভিড়ের বেগতিক দেখে মেসি, ' আপন পরানের দাম বেশি ' বলে সোজা গেট টপকে ফিরে গেল হোটেলে। ব্যাস,আগুনে পুরো কেরোসিন ঢালার মতো জনগণ পুরো ক্ষেপে ভাংচুর করলো শুরু। এতক্ষন তাও বিশ্বাসের পো কে সামলে মেসির উড়ন্ত চুলের ডগা, আঙুলের মাথা, কালো গেঞ্জির হাতা দেখা যাচ্ছিল , এবার সেটাও নেই। আহা! যে ১৪ হাজার টাকার টিকিট কেটে ১৪ সেকেন্ড ও মেসিকে দেখলো না ,তার কষ্ট রাখি কোথায়! অগত্যা সে স্টেডিয়াম,গোলপোস্ট,চেয়ার,ইত্যাদির উপর সুদে আসলে ঝাল মিটিয়ে নিতে শুরু করলো। তার দেখাদেখি অন্যরাও। বাংলাদেশ গণভবন দখল করার ধাঁচে যুবভারতী দখল করলো জনগণ। আর যে পুলিশ এতক্ষন ২০-৩০ জন গেস্টকে সরাতে পারছিল না, তারা এবার এক স্টেডিয়াম জনতাকে সরাতে লাঠি উঁচিয়ে ছুটে এলো। মানে হেলে ধরতে পারে না,কেউটে ধরার কেস আরকি!! সে এক আলাদাই মোচ্ছব..তার মধ্যে কারা নাকি আবার ' জয় শ্রীরাম ' স্লোগান মেরে মাঠে গেরুয়া পতাকা দিয়েছে পুঁতে..ব্যাস মেসির মাঠ রামের দখলে কেন যাবে ,এই তর্কে চ্যানেলে চ্যানেলে জোড়াফুল ফুটতে লাগল.. পুলিশের কমিটি গঠন হলো,এনকোয়ারি শুরু হলো। শুধু জনতার টাকা চলে গেল যে কোন অদৃশ্য খাতে,আর কার হাতে হাতে তা GOAT হয়ে যাওয়া জনগন বুঝতেই পারলো না।🐐
© অর্ক সেনগুপ্ত
( লেখাটি সম্পূর্ণ ভাবে বিভিন্ন নিউজ রিপোর্ট এবং গুজবের উপর ভিত্তি করে রচিত, তাই সিরিয়াস হবেন না প্লীজ।
ছবিটি শুধুমাত্র মনোযোগ আকর্ষণের জন্য অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত )
Comments
Post a Comment